নাগা দের নকশী কাঁথা

কি ভাবে শুরু করব ঠিক বুঝতে পারছি না। Dimapur এর ছোট্ট এয়ারপোর্ট থেকে কলকাতা গামী দিনের একমাত্র বিমানের জঠরে বসে,air turbulence এর হাল্কা দুলুনিতে দুলতে দুলতে একগাদা কথা দলা পাকিয়ে মাথার মধ্যে আসছে। টুকরো টুকরো মন্তব্য ,যেমন নাগাল্যান্ড এ কি নাগা সন্যাসী হতে যাচ্ছিস , hornbill festival ছাড়া নাগাল্যান্ড কেউ যাই নাকি, নাগাল্যান্ডে এ দেখার কিছু আছে (অবজ্ঞাসূচক); আর ও কত  মন্তব্য। সে সবের উত্তর দেওয়ার কোনো দায় আমার নেই। সত্যি বলতে,আমিও নিজেকে প্রশ্ন করেছিলাম যে কেনো যাচ্ছি নাগাল্যান্ড ? যাই হোক, আপাতত যাত্রা শুরু করা যাক।

                  নাগা দের পোশাক দিয়ে তৈরি ম্যাপ 

       এমনিতেই এই ব্যস্ততা ভরা জীবনে, ছুটি জিনিসটা খুবই অপ্রতুল মহামূল্যবান ! তার ওপর সংসারের চারটি প্রাণীর ছুটি ও আমার ট্যাকের জোরের কম্বিনেশন permutation করে দেখলাম নাগাল্যান্ড আমার পক্ষে সস্তায় পুষ্টিকর! Anuj এর ( Zukenberer যৌথখামারে পরিচয়) পরামর্শ মেনে প্লেনের টিকিট তো কেটে ফেললাম, কিন্তু নাগাল্যান্ড সম্বন্ধে অনলাইন বা অফলাইনে শুধু Dzuoko ও HornBill festival ছাড়া বিশেষ কিছু খুঁজে পেলাম না। এবারেরও Anuj পরিত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আমার itinerary বানিয়ে দিল, Dimapur - Dzueluke - Khonorma- Pfutsero- Kohima- Dimapur, ৫দিনের ঠাসা প্ল্যান, প্ল্যান না বলে অলিম্পিক এর relay race বলা ভালো। Dzueleke Khonorma দুটোই গ্রাম, আর Pfutsero- নাগাল্যান্ড এর শীতলতম শহর (ভাবলাম এই গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে মুক্তি পেতে মন্দ হবে না!) Pfutsero- বিখ্যাত আরও দুটো কারণে ,এক এখান থেকে Mt Kapamodzu ট্রেক করা যায়, যেখান থেকে অপূর্ব সব সূর্যদয় দেখা যায় (Instagram এ সার্চ করলেই পাবে) ; আর ওদের বিখ্যাত GI tag প্রাপ্ত nettle র হাতে বোনা চাদর।  কিন্তু বিধি বাম, relay রেস প্রথমেই হার্ডেল রেস হয়ে গেলো ! Indigo র খামখেয়ালিপনার প্রথম বলি হল Dzuelke।
     যাই হোক, ডিমাপুরে বিকেল তিনটে তে নেমে, নাগা খাবারের প্রথম ঝাঁজ চেখে,পাহাড়ি রাস্তার আঁকবাঁক অতিক্রম করে পৌঁছলাম Asia র প্রথম cleanest village, Khonorma ;  পাহাড়ের বুকে এক ছোট্ট জনপদ, উল্টোদিকের পাহাড়েই নববধূর মহামূল্যবান হিরের আটলহরি হারের মতো ঝিকিমিকি করছে Kohima শহর। 
                   রাতের মোহময়ী কহিমা

 কাঠের ছোট ঘর, বাইরে সন সন করে বাতাস বইছে, আর নিচে পাহাড়ি নদীর গর্জন। কিন্তু যা চিরকাল মনে থাকবে, তা হচ্ছে নাগা আতিথেয়তা। Vivekano Pier, মধ্য ৫০এর ভদ্রমহিলা এই বাড়ির মালকিন (নাগা সমাজ মাতৃতান্ত্রিক)। ওই সরল অমায়িক হাসি, আর রান্নার হাতের গুণ,এক কথায় অপূর্ব; স্মোকড পর্ক আর সঙ্গে ডাল ও ব্রাউন রাইস, এখনও  জিভে লেগে আছে।সঙ্গে নাগা চিলির চাট ও তেঁতুল বাটা... আহা ,কি কম্বিনেশন। খাওয়াদাওয়া তো হলো, মুস্কিল হল অন্য জায়গায়; পরেরদিন রবিবার; আর বাইবেল এ প্রভু যীশু বলে গেছেন, রবিবার কাজ করো কি নরকে যাও (বিশ্বাস হচ্ছে না বুঝি; For six days, work is to be done, but the seventh day shall be your holy day, a day of sabbath rest to the Lord. Whoever does any work on it is to be put to death. Exodus 35.2) নাগা রা সেই কথাটা বেদবাক্য ধরে নিয়েছে, তাই রবিবার কোথাও কোনো দোকান খোলা থাকে না, কোনো কাজ হয় না। তো Pier জেঠিমা মুখসুদ্ধি (একটা ছোট আমলকী) দিতে দিতে জিজ্ঞেস করলো, have you booked any guide?সমস্যা টা জটিল; একটু বোঝানোর চেষ্টা করি। রবিবার বলে এই গ্রামের লোকেরা চার্চ এ যাওয়া ছাড়া কিচ্ছুটি করেবেন না (শুধু গ্রাম নয়, kohima তে খাবারের দোকান খোলা পেতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোয়াতে হয়েছিল !) গ্রাম যে একা একা দেখব তারও জো নেই, গ্রামের স্ট্রিক্ট নিয়ম বিদেশিদের সাথে গ্রামের একজন থাকা দরকার। (এমনকি আমাদের ড্রাইভার, Moses, নিজে নাগা হওয়া সত্ত্বেও আমাদের গাইড হতে পারবে না!) তিতীয় সমস্যা অবশ্য আমাদের, আমাদের দুপুরের মধ্যেই রওনা দিতে হবে Pfutsero র উদ্যেশ্যে।  
    আমি বুর্বুকের মত চেয়ে রইলাম,ভাবটা এমন যে প্রভু যীশু যখন তোমার আশ্রয়ে আমায় পাঠিয়েছেন, তখন তিনি কুলও রাখবেন শ্যাম ও রাখবেন। । এই  ত্র্যহস্পর্শ থেকে আমাদের পত্রিতাতা হলেন Pier জেঠিমা । একজন কম ধর্মভীরু নাগা কে পাওয়া গেলো, যিনি সকাল ৭টা তে আমাদের গ্রাম ঘুরিয়ে দেখাবেন,  ৯টার মধ্যে চার্চ এ যাবেন! এতে আতিথেয়তাও বজায় রইলো, প্রভু যীশুর আরাধনাতেও ব্যাঘাত হলো না; afterall Bible also says,You shall treat the stranger who sojourns with you as the native among you, and you shall love him as yourself, for you were strangers in the land of Egypt: 
    ঘরে ফিরে দেখি, মুঠোফোনে একগাদা মিসড কল ও একটা ছোট্ট বার্তা, Sir, এই সানডে আপনাকে একটু ল্যাব আসতে হবে। মনে মনে ভাবলাম, "ইহার চেয়ে হতেম যদি, নাগা বেদুইন"!
   সকালে গরম চা এ চুমুক দিয়ে, দুই বাঁদর ছানাকে বগলদাবা করে গেলুম গাইডবাবাজির সন্ধানে। দেখলাম চার্চের সামনেই উনি আমাদের অপেক্ষায়। গ্রামে ঢোকার মুখে এক পেল্লাই দরজা, তার মধ্যে দিয়ে উঠে গেছে পাথর দিয়ে বানানো এবড়োখেবড়ো সিঁড়ি। হোঁচট খেলাম প্রথম ধাপেই, না না সিঁড়িতে নয়, গাইডের কথায়। As you see, this village is gaurded by 3 such beautiful gates, each manned by different age groups, the last one by women and children,from enemies and other tribes. And this staircase has been made by the people of the village, all people divided into different age groups,with each contributing to a particular job set which is age appropriate. তাক লাগানো মতন ব্যাপার, শ্রমের এই সমানিধিকার, ধনী গরিব নির্বিশেষে গ্রামের উন্নতিতে এই সবার যোগদান, এ তো সেই গান্ধীজির স্বরাজ। ইউরোপের অনেক শহরে এখন storytelling narrative ট্রাভেল খুবই জনপ্রিয়। এখানেও তাই, গ্রাম দেখতে দেখতে ছবি তুলতে তুলতে ,শুনলাম এই গ্রামের ইতিহাস। কিভাবে ব্রিটিশদের বারবার এরা প্রতিহত করেছে, এদের পূর্বপুরুষেরা ব্রিটিশ সৈনিক দের মাথা কেটে নিয়ে এসে গ্রামে সাজিয়ে রেখেছে ( যতই বর্বরোচিত লাগুক, you have to understand that it didn't matter what you boast back home, that you have killed 20 persons, we need to see proof, and what better way is than to cut and bring the head, either way your enemy is already dead.....Guide এর অকাট্য যুক্তি)! তো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ যা পারেনি,  মিশনারি তা করে দেখালো। এই বর্বর নিষ্ঠুর head hunting জাতিকে প্রভু যীশুর শান্তির বাণীতে দীক্ষিত করলো। দূরে চার্চের ঘণ্টা বাজছে, আমাদের গাইড  একটু ইতস্তত করছে, বুঝলাম বিদায় বলার সময় এসে গেছে। ততক্ষণে অমরা গ্রামের একেবারে চূড়োয় এসে গেছি ( পুরো গ্রামটাই একটা পাহাড়ের গায়ে ) 
This is our last stop, there you can see the fort, and here is the cemetery of ,the General DH Gamat  who led the British against us. Infact the British send a larger force later,but it was ambushed. The British could never conquer Khonorma,and formally signed a peace treaty.(যদিও wiki খুঁজলে দেখা যাবে যে নাগা রা পরে ব্রিটিশদের হাতে পরাস্ত হয়েছিল, কিন্তু আমি তো ট্যুরিস্ট, সত্যান্বেষী নই ) আমি সেই অনাড়ম্বর স্মৃতিফলক এর চেয়ে বেশি আকৃষ্ট ছিলাম পারিপার্শ্বিক অপরূপ প্রকৃতির শোভায়। নিচে পুরো গ্রাম দেখা যাচ্ছে, আর দূরের পাহাড়ে জঙ্গলের মাঝে ধাপে ধাপে কাটা জমি! ঈশ, ধান এর সময়ে এলে কি অপূর্ব না লাগত! 
হঠাৎ তন্দ্রা ভাঙলো Jose র কথায়; you know, some South Indian tourist asked me, why do you allow the monument of a foreign aggressor, who did so much atroticities against ur village, on the best location of your village ! You should have destroyed it long back, and do u know , what I said? চুপ করে থাকা ছাড়া কিছু করার নেই এখানে! This monument also signifies the glory of our forefathers! If we destroy it, their history will also be lost। মনে মনে বললাম, সাব্বাস ! ভাগ্যিস Nationalism এর উগ্র হওয়া এখনও Saramatir পাহাড়ের চূড়োয় দাবানল লাগায় নি।
            Khonorma গ্রাম এর ভিউ পয়েন্ট
                 khonorma গ্রামের প্রবেশ পথ
।        এটাই দরজা
 আমাদের গাইড
মাঝের বর্ষার কালো চুল সত্যিকারের মরা মানুষের
The head hunters (kohima museum)
এরা নিজেদের প্রিয়জনকে ঘরের মেঝেতে কবর দেয়। কফিন এর প্রয়োগ Christianity এর আগে থেকেই এরা জানে (Khonorma village)
Log কফিনের নিচে হাল্কা আঁচে বডি কে mummified করার প্রাচীন পদ্ধতি। সারা বছর ধরে যারা মারা যেতো, বছরের এক শুভ দিনে তাদের কবরস্থ করা হতো।(Kohima museum)
Traditional nettle weaving (Khonorma)
British general এর honour এ স্তূপ
khonorma fort (১৮৫০ Battle of Khonorma)
Homestay এর Verandah থেকে 
গাজার নৌকা পাহাড় তলী যায়,ও মিরাবাই

      Ladies and gentlemen, please fasten your seatbelts, we are going to land at Netaji Subhas  Airport........ যা: ,কখন যে দেখতে দেখতে কলকাতা পৌঁছে গেলাম কে জানে। পাশের মেয়েটি উঠে দাঁড়ালো, নাগাল্যান্ড এ বাড়ি; ওখানকার উৎসব নিয়ে গবেষণা করছে!
       উফফ, কি বিচ্ছিরি ভেপসা গরম, গাড়িটাকে ফোন করো না, এই গরমে বাচ্চা নিয়ে আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকব। সেই কোথায় কলকাতার ৩৮ আর কোথায় পাইন fir এর জঙ্গলে ঘেরা ঠান্ডা pfutsero তে ১৫। 
         প্রথম দর্শনে Pfutsero আমায় প্রচণ্ড হতাশ করেছিল, একটা সাদা মাটা ছোট্ট শহর, মনে হচ্ছে যেন কার্ফু চলছে (আসলে রবিবার; পুরো ghost town feel !!!)। Hotel এ লাগেজ রেখে চললাম গ্লোরি পিক দেখতে, শহরের সব চেয়ে উঁচু চূড়ো, পাইন এর জঙ্গলে মোড়া । রুহী রিভুর Glory peak ভালো লেগেছে; কিন্তু পরেরদিন কি করবো? Instagram এ ছবি দেখে ভেবেছিলাম Mt Kapamodzu তে সূর্যদয় দেখতে যাব, কিন্তু রাস্তার অবস্থা যা দেখলাম,তাতে রাত ৪টা তে ওই বিপদসঙ্কুল রাস্তায় family নিয়ে যাওয়া সমীচীন লাগলো না। ঠিক করলাম,কালকেই ব্যাক টু kohima। ৮:৩০ তে খাবার সার্ভ করার কথা, হোটেল মালিক কে ফোন করতে সে তো কাচু মাচু হয়ে বলল, one of my female staff is experiencing severe pain abdomen,will be taking her to hospital, please bear with me, dinner will be a bit late. তো, ৯টার সময় Akole (হোটেল মালিক, ছোকরা ছেলে, দারুণ ছবি আঁকে) নিজে এসে আবার apologise করলো। Marie was having severe menstrual bleed,had to go to hospital for drugs. আমাদের কোনো প্ল্যান নেই শুনে বলল, if you want to see the real Nagaland, come with me, I will take you to such villages where no outsider has ever set foot. প্রস্তাবটা লোভনীয়,ভাবলাম পরে আসবো আবার। আপাতত কালকের জন্যে কি উপদেশ শুনি।Zapami Lashune Lushuni; এই তিনটে গ্রাম আমাদের ফেরার পথে পড়বে, অবশ্যই যেন দেখি। আর বেরোনোর আগে Pfutsero র বিশ্ববিখ্যাত GI tag Nettle Chaekswaeng shawl যেন কিনে নিয়ে যাই! 
                     Chaekawaeng shawl
                         Sunset Glory Peak 
       অত কি ভাবছো বলো তো, ভোলাদা কখন থেকে ডাকছে, তাড়াতাড়ি লাগেজটা তোলো।তো বাইপাস ধরে গাড়ি ছুটে চলেছে, আর পেটের মধ্যে ছুঁচোর কীর্তন। North Inn  হোটেলে গাড়ি দাঁড় করানো হলো for a late lunch। আজ পয়লা বৈশাখ , সবাই দেখি শাড়ি আর ধুতি পাঞ্জাবি পরে অভ্যর্থনা করতে ব্যস্ত। Buffet...।মাটন তাতে কামড় দিয়েছি, মনে হলো এই last চার দিনে কি কি না খেয়েছি।

       "Our menu will offend half the world. And what about the other half,I asked . They will be on our menu anyway!" ,Moses হাসতে হাসতে বলল। আমি আর ও,শেষ দিনে kohima র এক অনামা অখ্যাত দোকানে খেতে এসেছি, এক স্পেশাল খাবার, ও নিজের জন্যে অর্ডার করেছে Beef inwards (Liver and intestine of Beef) আর আমার জন্যে - থাক শুধু বলে রাখি, আমি সর্বভুক। আমার খাবার নিয়ে স্পেকুলেট না করে, দেখা যাক কহিমার বাজারে কি কি পাওয়া যায়। নাহ্,বলার চেয়ে ছবিতেই দেখে নাও।
A typical Naga Menu
Dimapur e fried pork and beef momos
                          A naga kitchen 
বলো তো দেখি, এটা কি? (Hint - এর আত্মবলিদানে মেয়েদের অপূর্ব সিল্কের শাড়ি তৈরী হয়)
শসা with Mice
Naga king chili, এক ছোবলেই ছবি
মৌচাক
bamboo শুটস,dried chilli, Rose tea
guess the meat (hint বিশ্বামিত্র মুনি একবার এই মাংস খেয়েছিলেন)
"শুনেছি নরমাংস সুস্বাদু" - না এটা নরমাংস নয়!
Moses এর বাটিতে বীফ innards (নাড়ি ভুঁড়ি আর লিভার, অতীব সুস্বাদু;  আমারটা .....থাক! এমনিতে আমি সর্বভুক!)

আপনাদের তিনজনের বিল হয়েছে ২৯৭৪/- ,চমকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনজন? বাচ্চাদের হাফ ধরেছি। পুরো নাগাল্যান্ড ট্রিপ এ রুহী রিভূর খাবার ফ্রী, উল্টে Pier জ্যেঠিমা তো চার্চ এ যাওয়ার আগে এক ডজন কলা দিয়ে বলল, these are from my garden, take them,you will need on the way! 
Pier জেঠিমা 

    যাই হোক, টাকা মিটিয়ে আবার গাড়ি ছুটিয়ে ফিরছি বাড়ির দিকে। উলুবেরিয়ার কাছে মস্ত জ্যাম, সবাই আগে যাওয়ার জন্যে যেন ব্যস্ত; একদিকে বাজছে এসো হে বৈশাখ, অন্যদিকে "বাঙালীর বাঙালিয়ানা আজকের দিনে ভুললে চলবেনা,যারা বাঙালিকে সম্মান করতে যানে না,তাদের একটাও ভোট নয়" ,আর ওদিকে গাড়ির হর্ন; পুরো খিচুড়ি ব্যাপার । কোহিমা তেও যথেষ্ট জ্যাম হয়,কিন্তু কেউ হর্ন বাজায় না, ট্র্যাফিক আইন ভাঙে না, অকারণে রাস্তার ওপর হেঁটে বেড়ায় না;Toto Auto বা হকার এখনও ফুটপাথ গিলে খাইনি। যদি আমায় জিজ্ঞেস কর, কলকাতা না kohima, কে বেশি সভ্য; আমি বলব অবশ্যই কলকাতা। .রাস্তায় এত লোকজন যানবাহন, চতুর্দিকে মূর্তিমান দম্ভের মত দাঁড়িয়ে আছে highrise গুলো, পার্ক স্ট্রিট এ যেখানে সারা রাত লাস্যময়ী হাস্যমুখে জেগে থাকে,  আর সেখানেই এখনও রাত্রে hospital এ onduty( মেয়ে) ডাক্তার রেপড মার্ডার্ড হয়;  এই contradiction না হলে আবার সভ্যতা।
গাড়ি থেকে শুনছিলাম নেতার বক্তৃতা; বাঙালীর বাঙালিয়ানা নিয়ে " আর্যভরা দর্পতেজ"! নেতা বোধহয় জানেন না যে এই বাঙালি ১৮৪৭ এর সিপাহী বিদ্রোহের সময়  ইংরেজদের সমর্থন করেছিল। "অন্নপায়ী বঙ্গবাসী
  স্তন্যপায়ী জীব" বাঙালি কে বাদ দিয়ে, নাগা দের প্রসঙ্গে ফেরা যাক।  Khonorma থেকে বেরোলে একটা ছোট monolith চোখে পড়বে, নীচে তার ছবি দিলাম। যে জাতিকে ইংরেজরাও দমাতে পারেনি, যারা ইংরেজের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের জমি জাপানি আগ্রাসন থেকে মুক্ত রেখেছে, এবং আজও যারা নিজেদের শিল্প সংস্কৃতি সমান ভাবে বজায় রেখে চলেছে ; ওস্মিতা বোধহয় তাদেরই মানায়। 
"Nagas are not Indians, their territory is not a part of the Indian Union.We shall uphold this unique truth at all costs and always" Krishanisa Seyie
(It needs guts for the Naga people to keep this seditious monolith....hats off!!!)

Moses কে জিজ্ঞেস করেছিলাম এই লেখাটার ব্যাপারে,সংক্ষিপ্ত উত্তর : Untill the lion learns to write, every story will glorify the hunter. অমরা চিরকাল ওদেরকে দেখে এসেছি টেররিস্ট হিসেবে; ওদের viewpoint টা নিচে দিলুম, সত্যি মিথ্যের হিসেব নিকেষ মহাকাল করবে।
These are excerpts of section from the book, Nagaland and India : The blood and the Tears, by Kaka D. Iralu (based on the Letter written by Khrisanisa Seyie ,the 'president' of the 'Government of Nagaland'. to UN in 1957)

ইতিহাস থেকে আবার বর্তমান এ ফিরে আসা যাক।Monolith এর কথায় আমার Asterix Obelix এর Gaul দের কথা মনে পড়ে গেলো; ওদের মত এরাও ভালো কোনো কাজ করলে, পুরো গ্রাম তার জন্যে পাথর বয়ে নিয়ে আসে, গ্রামে সেটাকে স্থাপন করার জন্যে। সারা নাগাল্যান্ড জুড়ে তার অজস্র উদহারন পেয়েছি, এখানে যেমন মনীষীদের বা দেব দেবীর মূর্তি চারিদিকে, নাগাদের সেরকম কিছু নেই। ভালো কাজ করো, নিজের নাম পৃথিবীর বুকে খোদাই করে যাও।
 Rucha Whimso, একজন বিখ্যাত নাগা যোদ্ধার(১৭৬৬) বংশতালিকা , khonorma গ্রাম
This tsoshe was raised by Lt.Lonyichu Kenye in 1965. It took two days for menfolk from Nethu Ketshu (Zapami,Lashumi and Leshemi) to lift this mammoth monolith stone on performing feast of merit (সেই উৎসবের কিছু ছবি kohima r স্টেট মিউজিয়াম এ আছে!)

This monolith is erected for the Golden jublee of chakhesang regional legacy Hoho in Zapami
এই অর্ধ চন্দ্রকৃতি জায়গাটা (khwehu) দেখে আমি ভেবছিলুম বোধহয় ধান শুকানোর জন্য, কিন্তু না। গ্রামের লোকদের মহাভোজ খাওয়ালে(feast of merit!), you earn the right to construct such a structure!!! জিনিসটা অনেক খানি আমাদের গ্রামের চণ্ডী মণ্ডপের মত, আড্ডা দেওয়ার জায়গা (communal meeting spots, গ্রাম সভা); শুধু নাগা রা বাঙালিদের মত pnpc আড্ডা দেয় কিনা জানা নেই!  (এই kheweu টা তৈরি করেছে Aetseu in Khonorma village in ২০০৬)

স্থাপত্যের কথাই যখন এলো,নাগা দের বাড়ির তারিফ না করে উপায় নেই। আজকের যুগে যেখানে শহর কেন্দ্রিক সভ্যতার আগ্রাসনে বিচ্ছিরি সব ফ্ল্যাট (পায়রার খোপ) আর highrise এ ভরে যাচ্ছে চারিদিক,তখন এদের যৎসামান্য পর্ণকুটির স্থাপত্যের নিদর্শন বহন করে। আসল বাড়ির কিছু নমুনা দেখেছিলাম Zapami ও khonorma গ্রাম এ, কিন্তু kisama (যেখানে হর্নবিল উৎসব হয়) তে সমস্ত নাগা tribe এর পর্ণ কুটির এর যা বৈচিত্র্য দেখলাম, তা অকল্পনীয়।
এটা নৌকো নয়,এক প্রকার বাদ্যযন্ত্র (গাছের গুঁড়ির মাঝখান টাকে ফাঁকা করে, তার গায়ে হাতুড়ির মত একটা জিনিস দিয়ে মারতে হয়, percussion instrument)
ওটা বাঘ নয়, rice beer বানানোর পাত্র 

নাগাল্যান্ডে র সব কিছু ভালো,এরকম কোনো দাবি করব না। একটা ব্যাপারে পশ্চিম বাংলা এগিয়ে, ভালো রাস্তা। নাগাল্যান্ডের রাস্তা খারাপ, কিন্তু রাস্তার দুধারে যে সবুজ ও পিঙ্ক এর সমারোহ(অপ্রিকোট ব্লুম) তাতে আমরা সবাই মোহিত।
ফিরছি Pfutsero থেকে কোহীমা। হঠাৎ Moses ব্রেক করলো,ভাবলাম গাড়ি খারাপ নাকি? What happened? Look there-- দেখি জিনিসপত্র পসরা সাজানো একটা দোকান,সব কিছুর দাম লেখা স্টিকার সাথে....কিন্তু দোকানদার কই? They come in the morning, keep the items and then go away, you can purchase anything. Pay it in the box! আমি এক বোতল ফ্রেশ মাউন্টেইন অ্যাপল জুইস কিনলাম। আমি ভেবেছিলাম,বোধহয় এটা একটা ট্যুরিস্ট শোপিস, ইনস্টাগ্রাম ট্র্যাপ। কিন্তু পুরো নাগাল্যান্ড জুড়ে এরকম অজস্র দোকান দেখেছি হাইওয়ের ধারে। কি পরিমাণ সততা,মানুষের ওপর বিশ্বাস থাকলে এটা সম্ভব। ঝিলাম বলল,আর আমাদের দেখ , সামান্য চিপস্ এর প্যাকেট চুরির অভিযোগে বাচ্চাটা আত্মহত্যা করলো। (Panskura Child case)
দেখতে দেখতে Zapami ভিলেজের গেট চোখে এলো (এখানে সব গ্রামের বাইরেই একটা গেট,গ্রামবাসীরা বানায় প্রতিবছর Sunkriyen ফেস্টিভ্যাল এ) ঝাউের সারি,মাঝে paved রাস্তা ধরে হেঁটে চললাম। দূরে পাহাড়ের কোলে ছোট্ট গ্রাম,চারিদিকে পাহাড়ের গায়ে ধাপে ধাপে কাটা ধানের জমি....যেন রংতুলি দিয়ে আঁকা। গ্রামের লোকেরা একটা সুন্দর মিউজিয়াম বানিয়েছে,নিজের সংস্কৃতি আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে।
zapami 
গ্রামের সামনে তোরণ 
The world class museum in Zapami
Gas mask ,WW-2 ( It is not only the living,who are killed in the war- Isaac Asimov)
The entire animal kingdom 

                        বরের পোশাক
                       বৌ এর পোশাক
বর বৌ এর পোশাক দেখে আমার আগন্তুক সিনেমার এক বিখ্যাত ডায়ালগ মনে পড়ে গেলো; "তা তাদের মধ্যে যে অবাধ যৌনাচার হয়, এটাকে আপনি সভ্যতার কোন স্তরে রাখবেন"; মোসেস কে জিজ্ঞেস করেছিলাম একই কথা। Before christianity, there was no taboo in premarital sex (এখনও খুব একটা আছে বলে মনে হলো না।). Angami were monogamous,but the bride had the right to chose her husband.Marriagable women used to stay in dorms (so also the men), and there were various games and festivals(gennas),where they chose their partners. Divorce and widow remarriage is allowed,and not frowned upon(Wife gets 1/3rd property on divorce and death of husband).Lhotas and semas were polygamous, but there was a steep price to pay for a bride, divorce was very common among them, and women had a say in choosing their husbands. You see, with the constant fighting among tribes, most males used to sleep together in a morung(a sort of club house, আমার দেখেছিলাম Khonorma তে) as they must be always ready for surprise attack at night. But, we are more civilised now, he said with a wry smile."The holy knot, যদিদং হৃদয়ও মম, তদ্বিদং হৃদয় তব"

লেখাটা এবার শেষ করি। আজ ২৮শে এপ্রিল, আজকেই ডেডলাইন ছিল লেখাটা জমা দেওয়ার, নানা কাজে হয়ে ওঠেনি। পশ্চিমবঙ্গে এখন ভোট, কে জিতবে জানি না। একটা খবর খুবই বিচলিত করেছিল আমায়, অভয়ার ( নামটাই ভুলিয়ে দিল system!) rape ও murder। আজকে দেখলাম ১০ বছরের একটা মেয়ে কে cisf এর এক জওয়ান ধর্ষণ করেছে। পলিটিক্স পাওয়ার ট্রাম্প ইরান এসবের মধ্যে এই খবর হারিয়ে গেছে। ভাবছেন, হঠাৎ নাগাল্যান্ড এর মাঝে এসব আলোচনা কেনো? শেষ দিনে Kohima war cemetery এ যাচ্ছিলাম, জ্যাম এ আটকে; গাড়ির জানলার বাইরে দেখছি অপূর্ব সুন্দরী সব যুবক যুবতী, তারিফ করে বললাম,Moses, the Naga people have the finest dressing sense! স্মিত হেসে, Moses জিজ্ঞেস করলো, what do people wear in Kolkata, বললাম, শাড়ি,সাওয়ার,....are they afraid to wear dresses like us? কি বলবো ভাবছিলাম, কি করে বলবো যে Moses, কি পোশাক পরেছি তার ওপর যায় আসে না তোমার ওপর স্বাপদ কুল ঝাপিয়ে পড়বে কিনা,তাদের লালায়িত জ্বিভ নিয়ে। Moses আমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই বলতে থাকলো, rapes, eve teasing are a thing you do not hear here! You and mam can easily walk around after dinner !( এটা সম্ভব হয়েছে শুধু কি আইনের চোখরাঙানিতে, (Nagaland has the highest conviction rate and lowest crime rate against woman in India) ,নাকি এখানকার শিক্ষা সংস্কৃতির ফলে, নারীর ক্ষমতায়নে ( সমস্ত ক্ষুদ্র মাঝারি দোকান এখানে মেয়েরা চালায়, এমনকি সবজি মাছ মাংস বাজারও)! Sir,that is Kohima war cemetery,world war 2. You will have to walk a bit up the hill.
   
Kohima war cemetery পাহাড়ের ওপর এক গণ কবর। প্রত্যেক কবরের পাশে একটা ছোট্ট ফুলের গাছ, লুটিয়ে পড়ছে কবরখানাকে বুকে নিয়ে; এই পৃথিবীর সমস্ত ঘ্রাণ যেন দিতে চাইছে ওই সৈনিক কে, যে জীবনের ২০ টা বসন্ত ও অতিক্রম করেনি। ভারতীয়, ইংরেজ, জাপানিজ, নাগা, ইজিপশিয়ান, - কোন দেশের নাগরিক নেই সেখানে! 
                 He died that others may live 
 Love (and kohima ) in the backdrop of Kohima war cemetery 
"Old men declare war. But it is youth that must fight and die." — Herbert Hoover

 মনটা ভারাক্রান্ত, ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়েছে; দূরে kohima শহর দেখা যাচ্ছে। ফিরে যাচ্ছি হোটেল এ, Mose বলল, u know,so many Nagas fought in WW-২ against the japs, protected India. Do u know, Nagas contribute significantly to Assam Rifles (since 1835),we produce more athelets than anywhere else, yet when i go to Kolkata,what do my friends ask me..... হেসে বলল, do you eat human flesh ?...they think we are still chopping off heads, and playing polo with them. Your head is still intact sir ,😂 .. দূরে kohima cathedral এ ৫টা বাজলো। 

ভাবছিলাম বলি, " সভ্য কি জানো? সভ্য হচ্ছে সেই মানুষ যে আঙুলের একটি চাপে একটি বোতাম টিপে একটি ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষেপ করে সমস্ত অধিবাসী সমেত একটা গোটা শহর কে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। আর সভ্য কারা , যারা এই অস্ত্র প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারে,without turning a hair! " কিন্ত আমার মত সভ্য অর্বাচীনের এর মুখে এসব বাতুলতা মাত্র।"এটা আমার পরম আক্ষেপের বিষয় যে আমি নিজে জংলি নই" ,সভ্যতার ঘুণ এই ৪০ বছরে আমার  রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে।

দ্বিবা স্বপ্ন দেখা বন্ধ করো, বাড়ি এসে গেছি, জিনিস পত্র নামাতে হবে! 

লেখাটা এবার বন্ধ করি।
 যাওয়ার আগে কোহিমার কিছু ছবি -
 The Queen of the Hills
     Kohima catholic cathedral 

যে জিনিস মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে,আমি তা মানি না। Religion তো তা করেই, organised religion আর ও করে।
নাগা রা ধর্মভীরু, রবিবারে পুরো শহর চার্চ এ আসে ; Moses কে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে নাগাল্যান্ড এ Christianity কি করে এলো, ও একটা মজাদার গল্প বলেছিল। The first Christian missionaries came to Manipur. The then Manipur king (a Hindu king) pushed them out towards Nagaland with the hope that they would be killed by the head hunting Nagas.😂 তারপর ও জিজ্ঞেস করলো,Do you beleive in God. অন্ধজনে দেহ আলো, মৃত জনে দেহ প্রাণ। আজকালকার দিনে একজন মঙ্গলময় পরমেশ্বর,যাকে তোমরা বলো benevolent God, এ বিশ্বাস রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। দৈনিক পত্রিকা দৈনিক প্রতিদিন সে বিশ্বাস এ আঘাত হানে।
                      The modern Naga warrior

পুনশ্চ - লেখাটা একটু এবড়োখেবড়ো (plane r turbulence এর মধ্যে লেখা তো!) ,two stories, two different timelines have been interwined ( তাই নকশিকাঁথা)। This Blog is an ode to the greatest visionary Satyajit Roy and his ideas in the film Agantuk। ভালো না লাগলে তার দায় পাঠকের, লেখকের নয়।😂

Comments

  1. সংজ্ঞা বড়ই অদ্ভুত জিনিস, বাস্তবতার সাথে কখনো কখনো কোনো মিল পাওয়া যায় না। উদাঃ সভ্যতার সংজ্ঞা।

    ReplyDelete
  2. khub e bhalo laglo lekha ta pore, Nagaland e abaro jabo Dzukou valley explore korte

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

Sri Lanka - the land of experiences!

Bromo র চিঠি

ভদকা ও ভূতের গপ্পো - পার্ট ২